আর্জেন্টিনাকে ৪-২ ব্যবধানে হারাল ব্রাজিল, বার্সাকে ২-১ ব্যবধানে রেয়াল মাদ্রিদ


 ব্যক্তিগত সেরার একটা স্বীকৃতির আক্ষেপ অবশেষে দূর হয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। গত অক্টোবরে রদ্রির কাছে হেরে বালন দ’রে সে স্বপ্নটা পূরণ হয়নি বলে সে সময় নাটকীয়তা কম হয়নি। রদ্রির পুরস্কার জয়ের খবর আগেই জানতে পারায় ভিনিসিয়ুস তো বটেই, পুরো রেয়াল মাদ্রিদই বয়কট করেছিল ফিফার বালন এবার আর আক্ষেপে পুড়তে হয়নি। অনুমিতভাবে ২০২৪ সালের ফিফা দ্য বেস্ট নির্বাচিত হয়েছেন রেয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিল উইঙ্গারই। ফিফার শুধু বর্ষসেরা ফুটবলারই নয়, বর্ষসেরা পুরুষ কোচের পুরস্কারটাও গেছে মাদ্রিদে – পেয়েছেন রেয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এছাড়া ফিফার বর্ষসেরা একাদশেও দাপট দেখিয়েছে মাদ্রিদ। সর্বাধিক ৫ জন ফুটবলার জায়গা করে নিয়েছেন স্প্যানিশ ক্লাবটি থেকে।

বর্ষসেরা একাদশ তো দলে সুযোগ পাওয়ার ব্যাপার। এর বাইরে শুধু ব্যক্তিগত পুরস্কারে দেখা যাচ্ছে, ব্রাজিলিয়ানরা নিয়ে গেছেন ৪টি পুরস্কার, আর্জেন্টিনার ঘরে গেছে ২টি। ক্লাবের হিসেবে গেলে রেয়াল মাদ্রিদ ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে বার্সেলোনাকে। অনুষ্ঠান।ব্রাজিলের পুরস্কারের সংখ্যা বেড়েছে বিশেষ পুরস্কারগুলোর কারণে। ভিনি তো বর্ষসেরা হয়েছেনই, মেয়েদের ফুটবলে বছরের সবচেয়ে সুন্দর গোলের পুরস্কার জিতেছেন ব্রাজিলের মেয়েদের ফুটবল কিংবদন্তি মার্তা। এর বাইরে ফিফা ফ্যান অ্যাওয়ার্ড ও ফিফা ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড - দুটি বিশেষ পুরস্কারের দুটিই গেছে ব্রাজিলে।

গত এপ্রিল-মে মাসে রিও গ্রান্দে দে সোলে ভয়াবহ বন্যায় সরাসরি উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছিলেন ব্রাজিলের থিয়াগো মাইয়া। ব্রাজিলেরই ক্লাব ইন্তারনাসিওনালে খেলা মিডফিল্ডার নিজে পানিতে নেমে কাঁধে করে মানুষকে উদ্ধার করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এমন অসাধারণ কাজের পুরস্কারে তিনি ফিফার ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছেন।

ফিফা ফ্যান অ্যাওয়ার্ডও জিতেছেন ব্রাজিলের ক্লাব ভাস্কো দা গামার আট বছর বয়সী সমর্থক গিলের্মে গান্দ্রা মউরা। এপিডেরমোলিসিস বুলোসা নামের এক বিরল রোগে আক্রান্ত এই শিশু গত জুনে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৬ দিন কোমায় ছিল। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফেরার পর মায়ের সঙ্গে তার আলিঙ্গনের ভিডিও চোখে জল আনেনি কার! সে সময়ে গিলের্মের সেরে ওঠার পথে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন সে সময়ের ভাস্কোর তারকা গাব্রিয়েল পেক। আগস্টে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর ভাস্কোর খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পায় গিলের্মে, এক ম্যাচে দলের মাস্কটও ছিল সে।

Post a Comment

Previous Post Next Post